খুলনার, কয়রা উপজেলার, ০৫ নাং কয়রা গ্রাম। এলাকাটির সুন্দরবনের গা ঘেঁষে অবস্থিত। নদীর ওপারে বাঘের গর্জন, আর এপারে মানুষের কান্নার আওয়াজ।
দুপুরের রোদে সুন্দরবন–সংলগ্ন রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ নজর যায় একজন অল্প বয়স্ক মহিলার দিকে। মুখে ক্লান্তি আর দীর্ঘ জীবনের ভার। দুই জন শিশু সন্তানকে নিয়ে রোদে বসে শীত নিবারণ করছে। তার সম্পর্কে জানতে চাইলে আসমা খাতুন একগাল হাসি ছড়িয়ে বলেন কোনমতে ভিক্ষা করে দিন যায়।
কথায় কথায় জানা গেল, একসময় স্বামী-সংসার সবই ছিল আসমা খাতুনের। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ছিল কয়রা উপজেলা, মঠবাড়িয়া গ্রামে । স্বামী সিরাজুল সিকদার মানুষের জমিতে জাক করতেন । সংসারে অভাব ছিল, তবে জীবন থেমে ছিল না। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সিরাজুল সিকদার, পরীক্ষা করে জানতে পারে তার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। চিকিৎসার অভাবে কিছুদিনের মধ্য পৃথিবী ত্যাগ করেন সিরাজুল সিকদার।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে আসমা খাতুন বলেন, ‘অনেক কষ্টে তিন ছেলেকে বড় করেছিমা, কিন্তু বড় ছেলে বিয়ে করে বউকে নিয়ে শশুর বাড়ি থাকে বলতে বলতে হাউ মাউ করে কেদে উঠলে আসমা খাতুন।
চোখের জল মুছতে মুছতে আসমা খাতুন তার জীবনের কথা গুলো বলতে শুরু করেন।
সরকার বা কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাশে দাঁড়ালে আসমা খাতুন বাকি দুই সন্তানকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পাবেন।