৭২ ঘণ্টা পর কলারোয়া উপজেলা বিএনপির বিস্ফোরক অভিযোগ; ফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবি, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার অপসারণ চায় বিএনপি
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস-এর অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
নির্বাচন শেষ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা পর রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টায় কলারোয়া উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র অধ্যক্ষ মো. রইছ উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, এই আসনে আমাদের প্রার্থী প্রকৃতপক্ষে বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু পরিকল্পিত কারচুপির মাধ্যমে আমাদের পরাজিত দেখানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন - তুলশীডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র: বোরকা পরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভোট প্রদান।কেরেকাতা ইউনিয়নের ১৪৪ নম্বর কেন্দ্র: প্রিজাইডিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা না করে নির্দিষ্ট প্রতীকের এজেন্ট দিয়ে ফল ঘোষণা। ১৪৭ নম্বর সিংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র: ধীরগতিতে ভোটগ্রহণের কারণে ভোটারদের ফিরে যাওয়া। চিকিৎসার কারণে ঢাকায় অবস্থানরত এক ভোটারের ভোট প্রদান দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র: নিজ কেন্দ্রে পোলিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে ভোটার প্রভাবিত করার অভিযোগ। ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্র: ফল ঘোষণার আগেই সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক মন্তব্য।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ভোটের আগের রাতে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও এজেন্টকে অবৈধভাবে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বিএনপির অভিযোগ, সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. ইজ্জতউল্লাহ ভোটের আগের দিন ও ভোটের দিন একাধিক কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন, যা আচরণবিধির পরিপন্থী।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়— আনসার সদস্য নিয়োগে দলীয় প্রভাব খাটানো হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে আনসার সদস্যদের নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা ছিল, তা এই নির্বাচনে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। অস্বাভাবিক ভোটের হার দেখিয়ে জনপ্রিয় প্রার্থীকে পরাজিত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে সাতক্ষীরা-১ আসনের ফলাফল বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কলারোয়া প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বাচ্চু, সাবেক অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিক, শরিফুজ্জামান তুহিন, মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।