ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৪০০ শহীদের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আগামী ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। এ নির্বাচন '২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ নয়, এই নির্বাচন ২০২৬ সালের নির্বাচন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন ৩৪ হাজার আমাদের ছেলেমেয়েদের পঙ্গুত্বের নির্বাচন। এই নির্বাচন আয়নাঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের পরের নির্বাচন। এই নির্বাচন জামায়াতে ইসলামীসহ সকল তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর শহীদ পরিবারগুলোর হাহাকারের অবসানের নির্বাচন।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন অতীতের ৫৪ বছরের যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে, সেই বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন। অতএব এই নির্বাচনকে নিতে হবে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় জামালপুর সিংহজানী হাইস্কুল মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জামালপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এডভোকেট আব্দুল আউয়ালের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা কর্মপরিষদ সদস্য ড. ছামিউল হক ফারুকী, ডাকসুর এজিএস ও এস এম ফরহাদ, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, এবি পার্টি জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট সানোয়ার হোসেন প্রমুখ।
তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচনে প্রথম ভোট 'হ্যাঁ'র পক্ষে, ইনশাআল্লাহ। 'হ্যাঁ' জিতলে বাংলাদেশ জিতবে। 'হ্যাঁ' পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হয়ে যাবে। আমরা কি বাংলাদেশকে জিতাব না পরাজিত করব? প্রশ্ন রাখেন তিনি। জনতা ইতিবাচক সাড়া দেয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান।
আমীরে জামায়াত দীপ্ত কণ্ঠে বলেন, 'হ্যাঁ' মানে আজাদি, 'না' মানে গোলামি। যারা আবার আমাদের গলায় গোলামির জিঞ্জির পরাতে চায়, তারাই কেবল 'না' ভোটের কথা বলতে পারে।
কিছু মানুষের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেকে আছে 'হ্যাঁ'ও বলে না 'না'ও বলে না। কিছু দল তারা 'হ্যাঁ' ভোটের ব্যাপারে স্বস্তির সাথে কিছু বলতে চান না। আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই, আমরা যেভাবে ১৮ কোটি মানুষের সামনে গিয়ে সব জায়গায় সবাই বলতেছি সংস্কারে 'হ্যাঁ' ভোট, গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট, আপনারা 'হ্যাঁ' না 'না' এটা ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে লুকিয়ে লুকিয়ে বলেন কেন? যদি না বলেন বলে দেন যে, আমরা সংস্কার চাই না, নতুন বাংলাদেশ চাই না, পুরনো ব্যবস্থা চাই, ফ্যাসিবাদ আবার চাই। আর যদি 'হ্যাঁ' বলেন তাও বলে দেন যে, আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন চাই।
আমীরে জামায়াত বলেন, দ্বিতীয় ভোটটি ইনশাআল্লাহ আমরা দেবো ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে আগামীর যে বাংলাদেশ কায়েম হবে, সেই প্রতীকের পক্ষে। এখানে পাঁচটি আসনের পাঁচটিতেই দাঁড়িপাল্লার পক্ষ হয়ে ইনশাআল্লাহ ১১ দলের প্রার্থীরা লড়াই করবেন। সারা বাংলাদেশে যাকে যেটা হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, ওইটা নিয়েই ইনশাআল্লাহ তারা লড়াই করবেন নিজেকে নেতা বানানোর জন্য।
তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সাক্ষী রেখে স্পষ্ট বলছি, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা বিজয় চাই ১৮ কোটি মানুষের। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলেই জামায়াতে ইসলামীর বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। '২৪-এর তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী তাদের নেতৃত্বে সারা দেশবাসী যে জন্যে সংগ্রাম করেছেন, ওই সংগ্রামের ওই দাবি বাস্তবায়ন, ওই স্বপ্ন বাস্তবায়নই হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার। তারা চেয়েছিল একটা বৈষম্যহীন সমাজ। তারা চেয়েছিল হাতে হাতে কাজ। তারা চেয়েছিল ন্যায় বিচার। তারা চেয়েছিল দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। তারা চেয়েছিল চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। তারা চেয়েছিল মুগুর বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনীর কবর রচনা।
আমীরে জামায়াত চব্বিশের আন্দোলনে তাদের অবদান তুলে ধরে বলেন, সেদিন পুরুষরা যুদ্ধ করেছে, নারীরাও যুদ্ধ করেছে। যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠেছে যেদিন আমাদের মেয়েদের গায়ে হাত তুলেছিল সন্ত্রাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ১৫ জুলাই রাতের বেলা সেই দিন যে আগুন জ্বলে উঠেছিল সেই আগুনেই স্বৈরাচার ছারখার হয়ে গেছে। ১৬ তারিখ ছয়জন সিংহ পুরুষ আমাদের অহংকার, যারা গুলির সামনে দাঁড়িয়ে বুক পেতে দিয়েছিল। শহীদ আবু সাঈদ আমাদের কাঁধের ওপর তার শহীদের লাশ রেখে গেছে, হাতের তালুতে রেখে গেছে তার তাজা রক্ত। আমরা এই লাশ আর রক্তের সাথে বেইমানি করতে পারব না।
তিনি বলেন, এর আগে আবরার ফাহাদ দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে গর্জন করেছিল লিখুনির মাধ্যমে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে আধিপত্যবাদের গোলামরা পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শরীফ উসমান বিন হাদি নিজেই এক বিপ্লব, বিপ্লবের সেনাপতি। তাকেও ওই আধিপত্যবাদের গোলামরাই খুন করেছে।
জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন,আমি ২২ সালের মে মাসের ২৪ তারিখে এখানে এসেছিলাম। তখন বলেছিলাম,'আমি এখানে রিলিফ দিতে আসি নাই। আমি এসেছি আপনাদের একজন হয়ে আপনাদের এই দুঃখের সাক্ষী হতে। আমি এসেছি একজন আপনজন হিসেবে, আত্মীয় হিসেবে, আত্মার আত্মীয় হিসেবে। সেই বন্যায় আমার সহকর্মীদের নিয়ে আমি গলা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। হাসিনার দুষ্টু লোকেরা যেদিন আমাকে টেলিস্কোপ দিয়ে খুঁজছিল কোথায় থেকে আমাকে অ্যারেস্ট করবে। আমি জীবনের ভয় করি নাই।
জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মূল দায়িত্ব ছিল সরকারের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম আমাদের সরকার আসার প্রয়োজন নাই। জনগণের কাছে যাদের দায়বদ্ধতা নাই, জনগণের ভোটের যাদের দরকার নাই, সে সরকার জনগণের বিপদে আসবে কেন? তার তো আসার প্রয়োজন নাই, তাই তারা আসে নাই। কিন্তু আমরা মানবিক বাংলাদেশটা গড়তে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবক ভাইদের বলব তোমাদের কাছে আমরা ঋণী। যুবতী বোনদের বলব তোমাদের কাছে আমরা ঋণী। আমরা সাড়ে ১৫ বছর লড়াই করেছি, আমরা কিছুই করতে পারি নাই। জীবন দিয়েছি, আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছি, পঙ্গু হয়েছি, জেলে গিয়েছি দফায় দফায়। মায়েরা ও গিয়েছেন, এমনকি অবুঝ শিশুসহ জেলে যেতে হয়েছে। এমন দুর্ভাগ্য আমাদের জাতিকে সাড়ে ১৫ বছর এইরকমই ভোগ করতে হয়েছে।
দেশকে বদলে দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আসুন একটু শপথ নেই যে নিজে বদলাবো, দেশকে বদলায়ে দেব ইনশাআল্লাহ। ভালো মানুষ হবো, ভালো মানুষের দেশ গড়বো। যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করবো না, যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেব ইনশাআল্লাহ। এখানে স্পেশাল ইকোনমিক জোন, ডাবল রেললাইন, নদীভাঙনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া, তারপরে নকশী পল্লী গড়ে তুলে মায়েদের স্বস্তির সাথে কর্মসংস্থানের সম্মানজনক ব্যবস্থা করে দেয়াসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে তার কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছে দেয়ার যে দাবিগুলো এখানে করা হয়েছে- সবগুলো যৌক্তিক দাবি। কথা দিচ্ছি, আপনাদের টাকা আপনাদের কাজে লাগবে ইনশাআল্লাহ। এই টাকায় হাত দিব না, চুরি করবো না, লুণ্ঠন করবো না, ব্যাংক খালি করবো না, শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠন করবো না, চাঁদা তুলবো না, দুর্নীতি করতে দেব না, বলেন আমীরে জামায়াত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের টাকা আপনাদের কল্যাণে ব্যয় হবে। ইনশাআল্লাহ আপনাদের দাবি তখন আপনাদের চোখের সামনে বাস্তবায়িত হবে। আর আপনাদের ভোটে যদি আল্লাহর মেহেরবানীতে আপনাদের এই ভাইয়েরা নির্বাচিত হন, তারা বছরে একবার কমপক্ষে তাদের এবং তাদের পরিবারের সকল সদস্যের আর্থিক হিসাব-নিকাশ জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে বাধ্য থাকবেন। তারাও কি অতীতের রাস্তায় হাঁটছেন- নাকি পরিবর্তনের রাস্তা ধরে হাঁটছেন, তা জানার অধিকার এই জনগণের আছে। ক্ষমতায় যাওয়া চাট্টিখানি স্বাদের ব্যাপার নয়, দায়িত্বের বোঝা। সেই বোঝা ঘাড়ে নিয়ে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, এবার ১১ দলীয় জোট এবং বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী যাদের নির্বাচনে প্রার্থী করেছে তাদের ৬২ ভাগ যুবক। এই বার্তা দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ যুবকদের বাংলাদেশ। আমার যুবকেরা কারো কাছে ভিক্ষা চায় না, কারো কাছে ভাতা চায় না। আমার যুবকেরা দেশ গড়তে চায়, হাতে কাজ চায়। কাজ পাবে ইনশাআল্লাহ।
মায়েদের ব্যাপারে সংগঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, আপনারা গৃহে, চলাচলে, কর্মস্থলে তিন জায়গায় সবকিছুর আগে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সম্মান নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। যোগ্যতার ভিত্তিতে আপনাদের হাতে দেশ গড়ার কাজও তুলে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। সব জায়গায় কাজ করবে। আল্লাহর নবীজির সাথে আমাদের মায়েরা যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধের চাইতে কঠিন কোনো কাজ নাই, সব কাজে আপনারা অংশীদারত্ব পাবেন ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ইনশাআল্লাহ।
নারীদের হক নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের অনেক হক এই সমাজে লঙ্ঘিত হয়। দেশ পরিচালনার সুযোগ আল্লাহ দিলে হক নিয়ে আপনার স্বামীও বসে থাকলে- ওখান থেকেও আদায় করে আপনার হাতে তুলে দেব। যার যে হক আছে সেই হক দেওয়া হবে। মায়েদেরকে যে জাতি সম্মান করতে জানে না, আল্লাহ তায়ালা এই জাতিকে ভালোবাসেন না। মায়ের ভালোবাসা আমরা নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহু তায়ালা আল আজিজ।
অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য ধর্মের ভাই-বোনদের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট। বাংলাদেশ ফুলের বাগান, সব জাতের গাছ দিয়ে আমরা বাগান সাজানো, ইনশাআল্লাহু তায়ালা। এখানে কারো যোগ্যতার ক্ষেত্রে তার ধর্ম কী, দল কী, গায়ের চামড়ার রঙ কী, মুখের ভাষা কী এটা দেখা হবে না। দেখা হবে তার ওই কাজের যোগ্যতা আছে কি না আর তার মাঝে দেশের প্রতি কমিটমেন্ট, দেশপ্রেম আছে কি না। যদি ওই দুই জিনিস থাকে কাজ তার হাতে চলে যাবে, ইনশাআল্লাহ। ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ এখানে আমরা চলতে দেবো না। আমাদের জাতিকে আর বিভক্ত করতে দেবো না। জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
জনতার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমি একটু সাহায্য চাই আপনাদের। কোনো কোনো জায়গায় আমাদের মায়েদের একটু অপমান করা হচ্ছে শুধু ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ার জন্যে। আমাদের মায়েদের কি অধিকার নাই? তাদের কি এই দায়িত্ব নেই? যারা মায়ের গায়ে হাত তোলে তারা কোন প্রজাতি আমি বুঝতে পারি না। এরা কি মানুষ প্রজাতি না অন্য কোনো প্রজাতি? এই কয়দিন ধরে উৎপাত শুরু হয়েছে। আমরা চাই সবাই যার যার কর্মসূচি, পরিকল্পনা, বক্তব্য নিয়ে জনগণের কাছে যাক। যারা হাত তুলছে তারাও যাক, আমরাও যাব।
তিনি মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, আমি মায়েদের বলব আমরা আপনাদের সন্তান, আপনাদের অপমান আমরা সহ্য করব না। একদম সাফ কথা সহ্য করব না। যদি কোনো দুর্বৃত্ত আপনাদের কোনো কটূকথা বলে, চোখে চোখ রেখে বলবেন—আমি মা, আমি তোমাকে পরোয়া করি না, আমি পরোয়া করি আল্লাহ তায়ালাকে। কোনো কোনো জায়গায় ধমক দেওয়া হচ্ছে যে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে সেদিন যাইও না। ওইটাও চোখে চোখ রেখে বলে দিবেন আমি যাব, পারলে তুমি ঠেকাইও। বিড়ালরা পালাবে দেখবেন পালাবে, পেছনের দরজা দিয়ে, ইনশাআল্লাহ। আর মায়ের সন্তানদের বলব পাহারাদার হয়ে সেদিন মায়ের পাশে থাকবেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, সারা বাংলাদেশের মায়েরা তাদের নিরাপত্তার জন্য তারা বলে যে আমরা এখন এই সংগঠনকে(জামায়াত) চাই। এটা তাদের অধিকার। এটা তাদের ফ্রিডম অফ চয়েস। এখানে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই। লক্ষ লক্ষ কোটি মা এখন এক কথাই বলছে—আমরা আমাদের নিরাপত্তার জন্য এই ১১ দলকে চাই, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীকে চাই। আহ! মায়েরা বড় ঋণী করে ফেললেন আমাদেরকে। দোয়া করবেন, আপনাদের এই ঋণ যেন আমরা আমাদের সমস্ত যোগ্যতা দিয়ে পরিশোধ করতে পারি। আল্লাহ যেন এই তৌফিক আমাদেরকে দান করেন।’
জামালপুরের জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন স্তরের শতাধিক নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— জামালপুর জেলা সহসভাপতি আল আমিন মন্ডল, মেলান্দহ উপজেলা সদস্য সচিব শাহীন আলম, যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল মন্ডল, মাদারগঞ্জ উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জাকির, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা রেজাউল করিম হিরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানান।