ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতারা বহিষ্কারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরে বিএনপির একাংশের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তাব্য রাখেন সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খোশবুর রহমান খোকন। তিনি বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলার অজুহাতে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খোশবুর রহমান খোকন, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, পৌর বিএনপির ক্রিড়া বিষায়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সুজা কে যে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনো ধরনের কারন দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে বহিষ্কার করাটা অগণতান্ত্রিক।
দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের এভাবে বহিষ্কার করা দুঃখজনক ও হতাশাজনক। খোশবুর রহমান খোকন বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি রাতে আলফাডাঙ্গা হাসপাতাল রোডে অবস্থিত উপজেলা বিএনপির একাংশের কর্যালয়ে আমার সভাপতিত্বে একটি সভা চলাকালীন সময়ে আলফাডাঙ্গারই সন্তান জাহাজ মার্কার প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলন হঠাৎ করে আমাদের অফিসে এসে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় কে বা কারা ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই তিনজনকে বহিষ্কারের চিঠি দেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বহিষ্কার করার এখতিয়ার জেলা কমিটির নয়। কেন্দ্রীয় কমিটিই কেবল এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, মুলত আওয়ামীলগের লোক দিয়ে উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আমরা কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছি। এ কারনে একটি পক্ষ জেলা কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খোশবুর রহমান খোকন, রেজাউল করিম ও সিরাজুল ইসলাম সুজা দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন করবে এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা সৃষ্টি করব বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দলীয় কমিটি পূর্ণগঠন করে দল পরিচালনার দাবি জানান। এ সময় বহিষ্কৃত তিন নেতাসহ আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।