কানের ভেতরে গোপনে লুকানো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন পরীক্ষার্থীরা। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও পরীক্ষার হলে বসেই কানে ডিভাইস রেখে প্রশ্নের উত্তর গ্রহণ করছিলেন তাঁরা। সন্দেহজনক আচরণে নজর পড়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—পরীক্ষার হলে সরাসরি প্রযুক্তির সহায়তায় চলছিল নকল।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলার একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই পরীক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও একজন পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা এ কে করিম বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মইনুল হাসান নামের এক পরীক্ষার্থী কানের ভেতরে লুকানো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।

একই কৌশলে সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে মোছা. জাহিদা খাতুন নামের আরেক পরীক্ষার্থী কানের ভেতরে ডিভাইস লুকিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। তাঁকে ১০ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা দিবা–নৈশ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে বাকীবিল্লাহ নামের এক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসদাচরণের অভিযোগে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার জানান, “পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ছিল। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন জানান, জেলায় ৩২টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে এ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ২০ হাজার ৯৭২ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন করলেও ৪ হাজার ২৮৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেছে। সার্বিকভাবে পরীক্ষার পরিবেশ সন্তোষজনক ছিল এবং প্রশ্নপত্র বিতরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি।”
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।