চাঞ্চল্যকর দিপু হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বদানকারী আরেক হোতা মসজিদের ইমাম ইয়াসিন আরাফাতসহ মোট ২১ জন গ্রেফতার।
ময়মনসিংহের ভালুকায় চাঞ্চল্যকর দীপু হত্যা মামলার আরেক মূল আসামি ইয়াসিন আরাফাতকে ডেমরার সারুলিয়া পাড়া থেকে ডিবি পুলিশ গতকাল ৭ জানুয়ারী গ্রেফতার করেছে। হতভাগা দীপকে হত্যার সাথে জড়িত এপর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।ময়মনসিংহের ভালুকা থানাধীন পাইওনিয়ার নীটওয়্যার বিডি লিমিটেডে সংঘটিত মর্মান্তিক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক দিপু চন্দ্র দাস(২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সময় ফ্যাক্টরির গেইটে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়।
ভিকটিম দিপুকে মানবরুপী হায়েনার দল ফিল্মি কায়দায় মারধোর করে গেইটের সামনে হত্যা করে।পরবর্তীতে রশি দিয়ে লাশ টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় লাশ গাছে ঝুলিয়ে পোড়ানোর হয়।এই হত্যায় জড়িত নেতৃত্বদানকারী আরেক মূল আসামিকে গত ৭ জানুয়ারী বিকেল ৪ টায় ডিএমপি, ঢাকা-এর সহযোগিতায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম: মোঃ ইয়াছিন আরাফাত (২৫) পিতা: গাজী মিয়া মাতা: সফুরা খাতুন স্থায়ী ঠিকানা: দক্ষিণ হবিরবাড়ি, কড়ইতলা মোড় থানা: ভালুকা জেলা: ময়মনসিংহ।উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী মোঃ ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও গত প্রায় ১৮ মাস যাবত কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদের ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিল।গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর সে আত্মগোপনে চলে যায় এবং ১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করে। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে সে সুফফা মাদ্রাসায় শিক্ষকতার জন্য যোগদান করেছিল বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে আবগত হয়েছে।
পুলিশ জানায় পূর্ববর্তী তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, ঘটনার দিন ফ্যাক্টরির গেইটে সংঘটিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেফতারকৃত আসামীদের জবানবন্দির সাথে সদ্য গ্রেফতারকৃত আসামীর সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া ঘটনাটি দেশের শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এক নৃশংস এবং চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিপু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতের সাক্ষ্য প্রদান করেছে, ৯ জন আসামী ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।
১৮ জন আসামীকে ইতোমধ্যে রিমান্ড শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে, অপরাপর আসামিদের পুলিশের রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।