সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ২০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির এক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে স্থগিত থাকলেও পরবর্তীতে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চারটি আসনে মোট ২৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত সমর্থনপত্রে ত্রুটি, স্বাক্ষর না থাকা, বিদ্যুৎ বিল বকেয়াসহ বিভিন্ন কারিগরি ও আইনগত কারণে নয় জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
যাচাই-বাছাইয়ের দিন সকালে কাগজপত্রের জটিলতায় স্থগিত রাখা হয় সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মনোনয়ন। শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় তার বিরুদ্ধে দেওয়া ৭০ বছরের সাজা থেকে খালাসপ্রাপ্তির উচ্চ আদালতের রায়ের কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। পরে বিকেলে প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাবে দাখিল করায় তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
অপরদিকে, বিএনপি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলীয় আন্দোলন ও আলোচনা-সমালোচনায় থাকা সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত সমর্থনপত্রে ত্রুটি থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা-২ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) রুহুল আমিন গুপের সমর্থিত দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রশিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয় বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে। একই আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত পত্রে ত্রুটির কারণে।
এছাড়া অন্যান্য বাতিল হওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরপত্রে ভুল, স্বাক্ষর না থাকা কিংবা বিধিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফরোজা আখতার জানান, “যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন।