
আট দলীয় নির্বাচনি সমঝোতায় যোগ দিয়েছে এনসিপি ও এলডিপি। এর ফলে এই জোটের মোট দলের সংখ্যা হয়েছে দশটি।
রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি ও কর্নেল অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে।
এই সংবাদ সম্মেলনে আটটি দলের শীর্ষ নেতাসহ কর্নেল অলি আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। তবে এনসিপির কোনো নেতা সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন না।
জামায়াতের আমির জানান, এনসিপির সাথে কিছুক্ষণ আগেই আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে তারা আমাদের সাথে এই সমঝোতা বা জোটে যুক্ত হয়েছে। তারা আজ রাতের মধ্যেই সংবাদ সম্মেলনে সেই ঘোষণা দিবেন।
জামায়াতের আমির বলেন,“এটা আমাদের মজবুত নির্বাচনী সমঝোতা। সারাদেশে তিনশো আসনের বিভিন্ন আসনে আমাদের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ করেছি। যেহেতু দুই দল শেষ পর্যায়ে এসেছে। খুবই দুরূহ হয়ে গেছে। শেষে এসে কোন কোন দলের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আমরা তাদের যুক্ত করতে পারিনি”।
জামায়াতের সাথে জোটে অংশ নেওয়ার আলোচনার প্রেক্ষাপটে গত দুইদিনে এনসিপির পরপর শীর্ষ পর্যায়ের দুইজন নেতা তাসনিম জারা ও তাসনূভা জাবীন পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া আরো ত্রিশ জন নেতা এনসিপির নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
রোববারের সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সাথে এনসিপির যোগ দেওয়া নির্বাচনি সমঝোতা বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির মি. রহমান বলেন, " আমরা কিসের ভিত্তিতে একত্রিত হয়েছি? আমাদের লক্ষ্যের কথা আমরা বলেছি, এটা আমাদের একটি মজবুত নির্বাচনি সমঝোতা। সারা বাংলাদেশের তিনশ আসনে আমরা বসে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন আসন নিজেদের মধ্যে আমরা নির্ধারণ করেছি।"
তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তাদের সমঝোতার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, ''কয়েকটি জায়গায় মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও সেটি মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর চূড়ান্ত করা হবে। এটি নিয়ে কোন সমস্যা হবে না”।
সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়ে মি. রহমান বলেন, আমাদের হাতে দেড় মাসের কম সময় আছে। আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ভোটের তারিখ যেন হেরফের না হয়। এ জন্য আমরা সহযোগিতা চাই।
তিনি বলেন, এখনো সকলের জন্য সমতল মাঠ তৈরি হয় নি। আমরা আশা করি সুষ্ঠু নির্বাচন। এর ব্যতিক্রম জাতি মানবে না।
জামায়াত, এনসিপি ছাড়াও এই জোটে আছে -লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি।
তবে কোন দল কতগুলো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সেটি ঘোষণা দেওয়া হয়নি এই সংবাদ সম্মেলনে।