মধ্যপ্রাচ্যে মানব পাচার করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রুবিনা আক্তার শিল্পী ও তার ২ ছেলে মো: ছিদ্দিক আকবর সানি এবং সোলেমান হোসেন রণি। চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে সক্রিয় রয়েছে এ চক্রটি। তারা তমিজ উদ্দিন মিজি বাড়ীর মোশারফ হোসেনের স্ত্রী ও পুত্র।
এই মানব পাচারকারী চক্রটির বিরুদ্ধে কোটে একাধিক মামলা ও বিভিন্ন থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
জানা যায়, মো: ছিদ্দিক আকবর সানি এবং সোলেমান হোসেন রণি সৌদি আরব রয়েছে। সৌদি আরব নিয়ে চাকুরী দেয়ার কথা বলে তাদের মা রুবিনা আক্তার শিল্পীর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লেনদেন করে মানব পাচার করছে সেখানে। প্রথমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চুক্তি করে মানব পাচার করে। পরবর্তীতে আটকে রেখে বিভিন্ন অযুহাতে আরো বেশি টাকা দাবি করে এ চক্রটি। টাকা দিতে রাজি না হলে প্রাণ নাশের সহ বিভিন্ন রকম হুমকি দিতে থাকে।
চাটখিল উপজেলার পরানপুর গ্রামের আবু মো: নুর হোসেনের ছেলে নাইমুল ইসলাম সজলকে সৌদি আরব নিয়ে ফাস্ট ফুড দোকানে ম্যানেজার হিসেবে চাকুরী দেয়ার কথা বলে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে আবু মো: নুর হোসেন তার ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের দাবিকৃত টাকা প্রদান করে। এর কিছু দিন পর চক্রটি নাইমুল ইসলাম সজলকে সৌদি আরব নিয়ে যায়। কিন্তু, শর্ত অনুযায়ী চাকুরী না দিয়ে তাকে আটক করে রাখে। বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো সাড়ে ৩ লাখ সহ মোট ৯ লাখ টাকা আদায় করে। এ বিষয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগীর বাবা আবু মো: নুর হোসেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নোয়াখালী গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কে তদন্তভার প্রদান করেন।
অপরদিকে একই উপজেলার পরানপুর গ্রামের শাহজান মাষ্টার বাড়ীর মো: দুলালের ছেলে রহমান হোসেন রায়হানকে সৌদী আরব নিয়ে চাকুরী দেয়ার কথা বলে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নেয় একই চক্র। চুক্তি অনুযায়ী চাকরি না দিয়ে রায়হানকে আটক করে আরো টাকা দাবি করে বিভিন্ন হুমকি দেয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা রুমকি আক্তার বাদী হয়ে চাটখিল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
আবু মো: নুর হোসেন বলেন, তার ছেলে নাইমুল ইসলাম সজলকে সৌদি আরব নিয়ে ফাস্ট ফুড দোকানে ম্যানেজার হিসেবে চাকুরী দেয়ার কথা বলে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে রুবিনা আক্তার শিল্পী সহ মো: সিদ্দিক আকবর সানি ও সোলেমান হোসেন রণি। পরবর্তীতে আবু মো: নুর হোসেন তার ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের দাবিকৃত টাকা প্রদান করে। এর কিছু দিন পর চক্রটি নাইমুল ইসলাম সজলকে সৌদি আরব নিয়ে যায়। কিন্তু, শর্ত অনুযায়ী চাকুরী না দিয়ে তাকে আটক করে রাখে। বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আরো সাড়ে ৩ লাখ সহ মোট ৯ লাখ টাকা আদায় করে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রুবিনা আক্তার শিল্পীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান, বিদেশে তারা লোক নেন এটা সত্য। তবে তারা বিদেশে গিয়ে কাজও করছেন।
চাটখিল থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, এই চক্রটির বিরুদ্ধে থানায় ও কোর্টে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।