বগুড়া জেলার শাজাহানপুরে ইজিবাইক চালক মোফাজ্জল হোসেন (৫২) হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো বার্মিজ চাকু, রশি, রক্তমাখা প্যান্টসহ ছিনতাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত মোফাজ্জল হোসেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খলিশাকান্দি গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে। তিনি একজন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক ছিলেন। প্রতিদিনের মতো গত ৪ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তবে রাতে আর বাড়ি ফেরেননি।
পরদিন ৫ নভেম্বর সকালে শাজাহানপুর উপজেলার সুলতানগঞ্জ হাইস্কুলের পেছনে তুতবাগান সংলগ্ন এলাকা থেকে তার গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছাঃ মাবিয়া সুলতানা শাজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৩, তারিখ: ০৫/১১/২০২৫; ধারা-৩০২/৩৪)।
পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম এর নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মোস্তফা মঞ্জুর, পিপিএম এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও শাজাহানপুর থানা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে মামলার রহস্য উন্মোচন করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে জানা যায়, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এক ব্যক্তি (মোঃ সোহেল রানা, ২২) এর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মোবাইলটি সে ছোট সজিবের কাছ থেকে ৬০০ টাকায় ক্রয় করেছে।

এরপর পুলিশের অভিযানে ধুনট উপজেলার জয়শিং পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে ছোট সজিব (১৯) ও বড় সজিব (২১) নামের দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি থেকে একটি সুইজ গিয়ার বার্মিজ চাকু, দুইটি রশি, রক্তমাখা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, মোট পাঁচটি ইজিবাইক ও ১৫টি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মোফাজ্জল হোসেনকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং অন্যান্য পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।