উপকূলীয় অঞ্চল বরগুনা পাথরঘাটা উপজেলায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। এই তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য রয়েছে একটি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ জন ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছে ৬ জন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জর্জরিত হয়ে রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। টয়লেটগুলোর নোংরা অবস্থা, ভাঙাচোরা দরজা ও তীব্র পানির সংকটে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অবস্থা এমন যে টয়লেট ব্যবহার করতে অনেক ক্ষেত্রেই এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। কেউ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছেন, অন্যজন টয়লেট ব্যবহার করছেন। রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য নেই সুব্যবস্থা। বাহির থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের অধিকাংশ টয়লেটের দরজা ভাঙা, কোথাও দরজার পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ময়লা চাদর। বেশির ভাগ টয়লেটে পানি না থাকায় ব্যবহার শেষে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত টয়লেটগুলো সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। এমনকি হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনের বাথরুমের অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রোগীর স্বজন আরাফাত বলেন, ‘এখানে টয়লেট ব্যবহার করা মানে মানসিক কষ্ট ভোগ করা। কেউ দরজার ওপাশে না দাঁড়ালে ব্যবহার করা যায় না। পানি নেই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও কোনো ব্যবস্থা নেই।চিকিৎসক সংকটের কারণে আমাদের চিকিৎসা নিতে দীর্ঘস্থায় সময় অপেক্ষা করতে হয়।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ২০৭ পদের মধ্যে ১১৪টি শূন্য। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা পাঁচজন, কিন্তু বর্তমানে রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল ও পুরো প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন সরকার বলেন, ‘সমস্যাগুলো আমরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। ইতিমধ্যে নতুন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের জন্য অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কিছু অস্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেন রোগীরা অন্তত টয়লেট ব্যবহারে কিছুটা স্বস্তি পান। আশা করছি, দ্রুত সংস্কার ও নতুন নিয়োগের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশের উন্নতি ঘটবে।’
চিকিৎসক সংকটের ব্যাপারে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে এখানে ডাক্তার সংকট রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে খুব দ্রুতই একটি সমাধান হবে।
সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বরগুনা জেলায় চলছে তীব্র চিকিৎসক সংকট। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, খুব শিগগিরই এই সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।