
ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ঢাকা কলেজ শাখার মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গেলে আতর্কিত হামলার শিকার হন তিনি। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা কলেজের গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি আশরাফুল ইসলামের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জুলাইয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে এই দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহল সচেতনভাবে এই ঐক্যকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে— যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কিছু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহ, বিদ্বেষ ও প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করছে। তারা মনে করে, এসব অপচেষ্টার পেছনে থাকা শক্তিগুলো মূলত গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ছাত্রঐক্যের শক্তিকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
ঢাকা কলেজের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি আরও জানায়, কিছু অসাধু গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থে ও রাজনৈতিক সুবিধা লাভের আশায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে তারা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনার্স ও ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া সূক্ষ্ম বিভাজন শিক্ষাঙ্গনের ঐতিহ্য ও সহাবস্থানের সংস্কৃতির জন্য হুমকি। এই অবস্থা নিরসনে কলেজ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ অভিযোগ করে, কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেইজ ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটিকে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ বা ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংঘর্ষ’ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা শিক্ষার্থীদের উস্কে দিচ্ছে এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। এসব পেইজের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।