ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত যখন নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে স্পষ্ট অবস্থান নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েল যদি পশ্চিম তীর পুরোপুরি দখলের চেষ্টা করে, তবে তা সমর্থন করবেন না।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখলের অনুমতি দেওয়া হবে না।” তার এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কিছু কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী পশ্চিম তীরকে পুরোপুরি দখলের আহ্বান জানাচ্ছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। এমনকি যুক্তরাজ্য ও জার্মানির পক্ষ থেকেও নেতানিয়াহু সরকারকে এই মুহূর্তে দখল প্রসঙ্গে ‘সতর্ক থাকার’ আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একধাপ এগিয়ে বলেছেন, “পশ্চিম তীর দখলের যেকোনো উদ্যোগ নৈতিক, আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
পশ্চিম তীর, যা ইসরায়েল ও জর্ডান নদীর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত, বর্তমানে ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অঞ্চলটির বেশিরভাগ নগর ও জনপদ পরিচালনা করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ১৯৯০-এর দশকে অস্থায়ী শান্তিচুক্তির পর থেকে এমন ব্যবস্থায় চলছিল অঞ্চলটি।
তবে ২০২২ সালে ইসরায়েলে কট্টর ডানপন্থি সরকার গঠনের পর অঞ্চলটিতে বসতি সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনা সামনে আনা হয়। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, তারা ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি মানে না এবং পশ্চিম তীরকে ‘ইহুদি মাতৃভূমির অংশ’ বলেই দাবি করে।
বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমজুড়ে প্রায় ১৬০টি ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছে। অপরদিকে, একই এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন, যারা পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখতে চান। তাদের প্রধান দাবি- ইসরায়েল যেন অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব বসতি প্রত্যাহার করে।
অন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এসব ইসরায়েলি বসতিকে ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করা হলেও, ইসরায়েল সেই আইনি অবস্থানকে স্বীকৃতি দেয় না।