রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট বাজারে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী ছাউনি ও ট্রাফিক পুলিশ বক্সের অভাবে প্রতিদিন যাত্রী, চালক ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কেশরহাট রাজশাহী-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেখানে প্রতিদিন শত শত যানবাহন এবং হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের আগে কেশরহাটে যাত্রীদের জন্য একটি ছাউনি ছিল। যাত্রীরা সেখানে অপেক্ষা করতেন এবং প্রয়োজনে বিশ্রাম নিতেন। কিন্তু প্রশস্তকরণ শেষে সেই ছাউনি আর নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে যাত্রীদের দোকানের সামনে কিংবা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তীব্র রোদ, বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের সময় ভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

অপরদিকে, যানজট নিরসনে নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদেরও রয়েছে ব্যাপক দুর্ভোগ। তাদের বিশ্রামের জন্য কোনো পুলিশ বক্স না থাকায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দোকানে আশ্রয় নিতে হয়। এতে প্রায়শই দোকানদাররাও বিরক্তির শিকার হন। তাছাড়া যাত্রী ও পুলিশের জন্য কোনো শৌচাগার ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও করুণ রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কেশরহাট বাজারের অভ্যন্তরে যাত্রী চলাচলের সুবিধার্থে ফুটপাত নির্মাণ করা হলেও তা এখন প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে গেছে। ফলে সব সময় বাজারে যানজট লেগেই থাকে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কেশরহাট বাজারে নতুন যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, ট্রাফিক পুলিশ বক্স স্থাপন এবং দখলকৃত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হোক। তারা বলেন, “মোহনপুর, তানোর, মান্দা ও বাগমারা উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন কেশরহাট হয়ে যাতায়াত করেন। এ অবস্থায় যাত্রী ছাউনি ও পুলিশ বক্স নির্মাণ এখন সময়ের জোরালো দাবি।”
বাংলাদেশ ট্রাফিক পুলিশ রাজশাহীর মোহনপুর জোনের ইনচার্জ রবিউল ইসলাম বলেন, কেশর বাজার এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের সুবিধার্থে ট্রাফিক পুলিশ বক্স স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রশাসন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অবগত আছেন এবং প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে সম্মতি ও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স স্থাপন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ এবং ফুটপাত অবমুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে, যাতে কেশর বাজার এলাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারেন।