হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর হেফাজত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হেফাজতের চার রাহবার সম্পর্কে বলেন, উনাদের অনুসরণ করতে পারলেই আমরা সিরাতে মুস্তাকিমের উপর থাকব। প্রত্যেক নামাজের পরে সিরাতে মুস্তাকিমের উপর চলার জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান তিনি।
কুরআনে সুলাহা-নেককারদের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সুলাহাদের প্রথম স্তরই হলো সাহাবায়ে কেরাম। এখন কোনো দল যদি বলে ও মনে করে, সাহাবারা সত্যের মাপকাঠি না, তারা অবশ্যই বিভ্রান্ত।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আমরা যদি হেদায়েত পেতে চাই তা’হলে নবী (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের তরিকায় চলতে হবে। তা’ না হলে জাহান্নাম ছাড়া পথ নেই। নবী (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে ৭৩ দল হবে। এদের মধ্যে একমাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে। বাকি সবাই জাহান্নামে যাবে। নবী (সা.) বলেন আমি যে তরিকায় এবং সাহাবায়ে কেরাম যে তরিকা অনুসরণ করবে তারা জান্নাতে যাবেন। যারা সাহাবায়ে কেরামের তরিকা না মেনে বেয়াদবি করছে তারা পথভ্রষ্ট। এদের সর্ম্পকে সর্তক থাকতে হবে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শায়খুল হাদীস পরিষদের উদ্যোগে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হেফাজতের চার রাহবার-আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.), আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রহ.), আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী (রহ.) নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম শীর্ষক জাতীয় কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী এসব কথা বলেন।
কনফারেন্সে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের আলেমদের রক্তের সিঁড়ি বেয়েই ২০২৪ এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হয়েছে। এই সফলতা একক কারোর কৃতিত্ব নয়। সারা দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হয়েছে। এক দল একক কৃতিত্ব নিতে চায়, তারা ঐক্য নষ্ট করতে চায়।ইসলামপন্থীদের ত্রয়োদশ নির্বাচনে এক বাক্স হবে এই বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশ। যারা ইসলামপন্থীদের একবাক্স করতে চায়। এটা রাজনৈতিক বাক্স। ইসলামের নামে দোছরা নির্বাচনী বাক্স কোথায় পেলেন। আমরা কি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছি। আমরাও তো মুসলমান।
বিএনপি নেতা বলেন, এদেশের মসজিদের ইমাম ৯০ ভাগ কওমি আলেম। যারা মসজিদের ইমামদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করতে চায়, তারা বিভক্তির রাজনীতি করছে। আমাদের বিভক্ত করতে পারলে কাদের লাভ? তিনি বলেন, নবী (সা.) বাণী শুনলাম হাশরের ময়দানে ৭৩ দলের মধ্যে একমাত্র ১টি দলই জান্নাতে যাবে। বাকিরা জাহান্নামে যাবে। বিএনপি নেতা বলেন, আলেমদের পরামর্শেই জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করেছেন। তাই বিএনপিকে ইসলামবিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় তিনি পার্শবর্তী দেশের যে কোনো ষড়যন্ত্রকে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই হবে আগামী দিনের মূল চালিকাশক্তি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না। ভারতকে আওয়ামী লীগের প্রভু দাবী করে তিনি বলেন, বিদেশে আমাদের কোনো প্রভু নেই বন্ধু আছে।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর উপরে চলা নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রলোভন সত্ত্বেও তিনি সরকারের সামনে মাথা নত করেননি। তাদের প্রস্তাবকে তিনি উপেক্ষা করে আপোসহীনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। আমাদেরও তার অনুসরণ করতে হবে।শায়খুল হাদীস পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, সাধারণ সম্পাদক হাসান জুনাইদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক ও আল আবিদ শাকিরের যৌথ পরিচালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী।
তিনি বলেন, ৭১- স্বাধীনতা যুদ্ধে কওমি ঘরানার আলেম ওলামারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষের বিভক্তি জাতি দেখতে চায় না। আমরা ঐক্য চাই বিভক্তি চাই না। তিনি বলেন, সকল ফ্যাসিবাদ বিরোধীর ঐক্য হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো নজির রাখতে চাই না যেটা কিছু দিন পার আর টিকবে না। সকল সমস্যা আলোচনার টেবিলেই সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ৯০% মুসলমানের দেশে হেফাজতে ইসলাম দ্বীনের রাহাবারের দায়িত্ব পালন করছে। যারাই আগামী দিনে ক্ষমতায় আসবে তাদেরকেই আপনারা সঠিক পরামর্শ দিবেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় দ্বীনী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাখজানুল উলূম মাদরাসা, খিলগাঁওয়ের মুহতামিম মাওলানা জহুরুল ইসলাম, যাদুরচর মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, জামিআতুল মানহাল উত্তরার মুহতামিম মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মুফতি সাঈদ নুর পীর সাহেব মানিকগঞ্জ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার নাজেমে তালিমাত মুফতি আশরাফুজ্জামান, ব্যাংক কলোনী মাদরাসা সাভারের মুহতামিম মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা হেলাল উদ্দীন, বনানী টিএন্ডটি কলোনি মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মুফতি ওয়াজেদ আলী, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (রহ.)এর সাহেবজাদা মাওলানা জাবের কাসেমী, আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী সাহেবজাদা মাওলানা খালেদ বিন নূর , আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর জামাতা মাওলানা আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মিরপুরের খতীব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আজিজ, গুলিস্তানস্থ পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারি সিরাজী, শায়খুল হাদীস পরিষদের সহসভাপতি মাওলানা মুহসিনুল হাসান, শাপলা স্মৃতি সংসদের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী , শায়খুল হাদীস পরিষদের সহসভাপতি মুফতি মোহাম্মাদুল্লাহ, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা শরীফ হুসাইন, কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা এহতেশামুল হক নোমান, মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিকি, মাওলানা মিজানুর রহমান মিসবাহ, মাওলানা মুবাশ্বির আহমাদ, মাওলানা তাওকির আহমাদ, গাজীপুর জোন আহ্বায়ক মাওলানা মাসুদুর রহমান, সাভার জোন আহ্বায়ক মাওলানা ফারুক আহমেদ, সদস্য সচিব মাওলানা মাহফুজ হায়দার সদস্য সচিব, গুলশান-বাড্ডা জোন সদস্য সচিব মাওলানা মুনির হুসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজি, শায়খুল হাদীস পরিষদ যাত্রাবাড়ি জোন আহ্বায়ক মাওলানা উজায়ের আমীন, কুমিল্লা জোন যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা অলিউল্লাহ, ফরিদপুর জোন যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল্লাহ মোস্তফা, নরসিংদী জোন সদস্য সচিব মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ , ভৈরব জোন যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা আল আমিন , মোহাম্মদপুর জোন সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান মিসবাহ।
তথ্য সূত্রঃ ইনকিলাব