বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়- হোয়াইট গোল্ড খ্যাত চিংড়ি চাষের অন্যতম অঞ্চল বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের বিলাঞ্চল। এই মূলঘর থেকেই আন্তর্জাতিক মানের গলদা চিংড়ির বানিজ্যিক চাষ শুরু হয়। সৈয়দ মহল্লা গ্রামের কাজী ফরিদ উদ্দিন ও সৈয়দ কেরামত আলী ১৯৮৮ শালে মূলঘরের কলকলিয়ার বিলে ঘের কেটে গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন।
সৈয়দ মহল্লার কাজী আবুবকর নান্নু, কলকলিয়ার জহর বালা,রুদ্রগাতীর চিত্ত বৈরাগী হাত ধরে শুরু হয় গলদা চাষ। তারই ধারাবাহিকতায় মাছ চাষের উপযোগী জলাশয়ের সমস্ত জায়গা জুড়ে এখন হাজার হাজার মাছের ঘের। এই এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এখন কোন না কোন ভাবে এই পেশার সাথে জড়িত।

সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের যে এলাকায় লবণ পানি আসে সেই অঞ্চলে বাগদা চিংড়ির জন্য অন্যতম। কিন্তু বাগেরহাটের ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারি উপজেলার বড় একটা অংশে নদ নদীর অভাব ও জলাবদ্ধতার কারণে জোয়ারের লবন পানি ঢুকতে পারেনা।
যখন বৃষ্টির কারণে নদীর পানির লবণের তীব্রতা কমে যায় তখন বর্ষার ভরা মৌসুমে কিছু নদীর পানি এই বিলের অঞ্চলে ঢুকে পড়ে। এই অল্প লবণাক্ত পানি কৃত্তিম সেচের মাধ্যমে মাছের ঘেরে
দিয়ে কিছু এলাকায় চাষিরা বাগদা এবং ভেনামি চিংড়ী চাষ করে থাকেন।
এই অল্প লবণাক্ততার জন্য গলদা এবং সাদা মাছের কোন ক্ষতি হয় না। মূলত এই এলাকায় গলদা চিংড়ি চাষ ব্যাপকভাবে করা হয় এবং পাশাপাশি বাগদা ও ভেনামি চিংড়ির চাষ হয়।
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ২০২৩ সালে ভেনামি চাষের অনুমতি দেয়। তখন থেকেই শুরু হয় পরীক্ষা মূলক চাষ।চাষীরা পায় ব্যাপক সফলতা। উন্নত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে

হাইডেনসিটি বা অল্প জায়গায় অধিক পরিমাণে মাছ চাষ করার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
*ভেনামি চিংড়ির রংয়ের ভিন্নতা থাকলেও দেখতে প্রায় হুবহু বাগদা চিংড়ির মত।
*ভেনামি গলদা, বাগদার তুলনায় অল্প জায়গায় অধিক পরিমানে পোনা চাষ করা যায়।
* ৯০ দিনেই বিক্রয়ের উপযোগী হয়ে যায় তাই বছরের বাকী ৯ মাস গলদা ও সাদা মাছ চাষ করে অধিক মোনাফা অর্জন করা যায়।
*ভেনামী চিংড়ির রোগ বালাই তুলনামূলক কম।
* ভেনামীর পোনা ক্রয়ে সহজলভ্য ও দাম তুলনা মূলক কম হলেও চাহিদার কারনে বিক্রয় মূল্যের বাজারদর বেশ ভালো পাওয়া যায় ।

সরজমিনে মূলঘরের সোনাখালী ঢোলমারার বিলে ফায়জুলবারী মিনারের ঘেরে তার সাথে কথা বলে জানতে পারি তিনি কয়েকটি ঘেরে ভেনামী চিংড়ী চাষ করে থাকেন এর মধ্যে একটি আড়াই একর জমিতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার মাছের পোনা দিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত ঘেরের লিজ,ঘের পরিচর্যা, পোনা ক্রয়,মাছের খাবার,শ্রমিকের বেতন সহ সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে সাড়ে আট লক্ষ টাকা।
২ হাজার কেজি লক্ষমাত্রা থাকলেও এ পর্যন্ত তিনি ১৫ শত কেজি ৮৫০ টাকা থেকে ৯২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।আরো ১ হাজার কেজি মাছ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী। এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি।
তার দেখাদেখি অনেকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন ভেনামী চিংড়ী চাষে।

মৎস্য অধিদপ্তর ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চাষীদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সুলভ ঋণ সুবিধা এবং জলবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য দখল হয়ে যাওয়া নদী নালা গুলো যদি দখল মুক্ত করে পানির প্রবাহ চলমান করার জন্য নদী নালা পরিষ্কার করা সহ চাষীদের আধুনিক মাছ চাষে উৎসাহিত করতে পারলে চাষীদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে।।