বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকে জেলা জুড়ে অবরোধ ও হরতাল চলছে। বাগেরহাটের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এই এলাকার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় চলমান পরীক্ষা স্থগিত রেখেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে খুলনা–বাগেরহাট মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, খুলনা–মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া, কাটাখালি ও মোল্লাহাট সেতু এলাকায়, বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার, খুলনা–মোংলা মহাসড়কের ফয়লা ও মোংলা বাসস্ট্যান্ডসহ অন্তত দশটি স্থানে সড়কে গাড়ি ও বেঞ্চ বসিয়ে অবরোধ করা হয়। এতে জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধ চলাকালে ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। মোংলা বন্দর এলাকা ও জেলা শহরের বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও হরতালে সমর্থন জানিয়ে বন্ধ আছে। বাগেরহাটের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এই এলাকার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় চলমান পরীক্ষা স্থগিত রেখেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস বলেন, '৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসনের পরিবর্তে তিনটি আসনের প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকে আমরা ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছি।'
'কখনো সংবাদ সম্মেলন, কখনো সড়ক অবরোধ, আবার কখনো নির্বাচন অফিসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। এরপরও নির্বাচন কমিশন প্রস্তাব থেকে সরে আসেনি,' বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'তাই আজ আমরা হরতাল ও অবরোধের ডাক দিয়েছি। জেলার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।'
তার ভাষ্য, 'যদি নির্বাচন কমিশন চারটি আসন বহাল না রাখে, তবে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।'
এর আগে, গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি বাগেরহাট জেলার চারটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে জেলার রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। আগামী ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।