৪টি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে খুলনা-মোংলা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া ও কাটাখালি মোড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আয়োজনে পূর্ব নির্ধারিত সময় ২১আগস্ট ২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় মহাসড়কটির দুটি স্থানে সড়কের উপর ট্রাক দাঁড় করিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন জেলার হাজার হাজার মানুষ।
অবরোধের ফলে মোংলা, খুলনা, বাগেরহাট ও ঢাকাসহ বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ঢাকার সাথে দক্ষিণ বঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এই অবরোধ কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইন্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা কৃষিবিদ মোঃ শামিমুর রহমান শামিম।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, জেলা জামায়াতের আমির ও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা রেজাউল করিম, নায়েবে আমির এডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম।
সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস,জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তরিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান টুটুল
বিএনপি নেতা শেখ শাহেদ আলী রবি, কামরুল ইসলাম গোরা,শেখ হাফিজুর রহমান, খেলাফত মজলিস, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, ১৯৮৪ সাল থেকে বাগেরহাট জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে চার জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রস্তাব করে নির্বাচন কমিশনের কারিগরি টিম। গত ৩০ জুলাই ওই প্রস্তাবের পর থেকে ক্ষোভে ফুসে উঠেছেন জেলার বাসিন্দারা। এরপর নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সকল রাজনৈতিক দলগুলো। গঠন করা হয় সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। ওই কমিটির ব্যনারে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, এমনকি ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেছেন বাগেরহাটবাসী। আজ পালন করছেন সড়ক অবরোধ কর্মসূচি।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এম এ সালাম অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেন, আজ নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তাব বাতিল না করলে, আমরা নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। এরপর নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে। এবং আগামী ২৫ তারিখ বাগেরহাটে সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে।সেই সাথে দক্ষিণ বঙ্গের সাথে সারাদেশের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলায় একটি সংসদীয় আসন কমানোর প্রস্তাবের বিরোধীতা করে অনেকগুলো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ অগাস্ট ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে ওইসব নোটিশের শুনানী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।