প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৫, ২০২৬, ১১:৪৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১২, ২০২৫, ৩:১০ পি.এম
মোল্লাহাটে উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও শিক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও

প্রশাসনিক দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উন্নয়নমূলক চিন্তাধারার অসাধারণ সমন্বয়ে মোল্লাহাট উপজেলা আজ যেন এক নতুন রূপে সেজে উঠেছে। পরিবর্তনের এই অগ্রযাত্রার নেপথ্যে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হরেকৃষ্ণ অধিকারী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি একের পর এক ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করে মোল্লাহাটকে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেই নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যবর্ধনের ক্ষেত্রেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। ফলে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ আজ প্রশংসায় ভাসছে এবং গর্বের সঙ্গে বলছে— এটাই আমাদের মোল্লাহাট!
সম্প্রতি ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের পাশে ‘মিলু মিয়ার মোর’ এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন এবং মোল্লাহাট প্রবেশপথে নান্দনিক নামফলক স্থাপন স্থানীয়দের মনে বিশেষ আনন্দ ও গর্বের জন্ম দিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে মোল্লাহাটে আগত দর্শনার্থীদের প্রথমেই চোখে পড়ে সাজানো–গোছানো, পরিচ্ছন্ন ও স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ।
শিক্ষার মানোন্নয়নে ইউএনও হরেকৃষ্ণ অধিকারীর নেয়া ১১ দফা কর্মসূচি ইতিমধ্যেই উপজেলার ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে, পাঠদানে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. শতভাগ নতুন মডেলের স্কুল ড্রেস নিশ্চিতকরণ। ২. সকালে নিয়মিত এসেম্বলি ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন। ৩. স্কুল কাবিং ও হলদে পাখির দল গঠন। ৪. শুদ্ধভাবে বাংলা ও ইংরেজি পাঠে বিশেষ ক্লাস। ৫. সপ্তাহে একদিন সহশিক্ষা কার্যক্রম। ৬. মাসে একদিন অভিভাবক/মা সমাবেশ। ৭. মেয়েবেলে কর্ণার ও স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা। ৮. শিক্ষার্থীদের আইসিটি দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ। ৯. নিয়মিত মাসিক মূল্যায়ন। ১০. দেশপ্রেম, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিষয়ক আলোচনা। ১১. ডে পরিচিতি আয়োজন।
শিক্ষাক্ষেত্রের এই পরিকল্পনাগুলো শুধু শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়াচ্ছে না, বরং তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীল চিন্তাধারা বিকাশ করছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান ইউএনওর প্রশংসা করে বলেন, "উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একজন সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষ। তিনি আমাদের উপজেলায় যোগদানের পর থেকে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পক্ষ থেকে তার এই উদ্যোগের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।"
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম মোল্লাহাট উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ হেদায়েতুল্লাহ বলেন, "উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অনেকেই এসেছেন এই উপজেলায়, তবে তার মধ্যে কিছু ব্যতিক্রমী জিনিস আমরা লক্ষ্য করেছি যা সত্যিই তার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায় এবং প্রশংসার দাবিদার। যেমন— উপজেলার সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নিয়ে বিশাল আকারে ইফতার মাহফিল আয়োজন, যুব সমাজকে মাদক ও অন্যান্য অসৎ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার আয়োজন, এবং বিশেষ করে গত অর্থবছরে টিআর-কাবিখার বরাদ্দ থেকে সিংহভাগ অর্থ মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নে প্রদান— যা পূর্বে আমরা মোল্লাহাটবাসী দেখিনি।"
শুধু শিক্ষা নয়, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশেও নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ইউএনও। উদ্বোধন করা হয়েছে উপজেলা অফিসার্স ক্লাব, মুক্ত মঞ্চ এবং উপজেলা পরিচিতি মঞ্চ— যা স্থানীয় জনজীবনে প্রাণচাঞ্চল্য এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই সমন্বিত অগ্রযাত্রা মোল্লাহাটকে ইতিবাচক পরিবর্তনের মডেল হিসেবে তুলে ধরেছে। অনেকের মতে, ইউএনও হরেকৃষ্ণ অধিকারীর উদ্যোগ শুধু একটি উপজেলার চিত্রই বদলায়নি, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
Copyright © 2026 খুলনা টাইমস ২৪. All rights reserved.